‘সুখী পরিবার’ শান্তি দিয়েছে

Loading...

সুখী পরিবার নিয়ে লিখতে গেলে আপনাকে আগে ভাবতে হবে আপনার কাছে সুখ এর সংজ্ঞা কি? একেকজনের জীবনে সুখ আসে একেক রকমভাবে। কেউ বড় জিনিসে সুখী হয়, কেউ ছোট জিনিসে। অনেকে পেয়ে সুখী হয়, অনেকে না পেয়ে। আর, সুখী শব্দটির সামনে যখন পরিবার যুক্ত হয় তখন বিষয়টা আর একজনের থাকে না। দ্বি বা ততোধিক মানুষের হয়ে পড়ে। এমনই দুইজনের সুখী হওয়ার গল্প নিয়ে তরুণ নির্মাতা মাবরুর রশিদ বান্নাহ নির্মাণ করেছেন ‘সুখী পরিবার’।

গল্প লিখেছেন যৌথভাবে রাজিউল হোদা দীপ্ত এবং মোরসালিন ইসলাম মাসুম। গল্পে নতুনত্ব দেখা গিয়েছে। এর থেকেও যেটা বেশী চোখে লেগেছে তা হচ্ছে গল্পের গভীরতা। কোনো এক উদ্দেশ্যে এই গল্পটি লেখা হয়েছে। একটি বার্তা আছে এখানে। অনেক পরিবারকে জীবনের একটি গুরুরত্বপূর্ণ অধ্যায়ের উপর রিয়ালাইজেশন করাবে এই গল্পটি। আপনাকে, নিজের চিন্তার অনেকটা গভীরে নিয়ে যেতে সক্ষম এই গল্প। এমন গল্প গতানুগতিকতার বাইরে এবং গভীর গল্প নিয়ে আরো নাটক নির্মান হবে বলে আশা করছি।

গল্পে এমন গভীরতা আছে বলে ভাববেন না, খুব ভাবুক একটা নাটক এটিই। গভীর বার্তাকে সহজভাবে সবার সামনে তুলে আনতে সক্ষম হয়েছে এর চিত্রনাট্য। এটি লিখেছেন পরিচালক নিজেই। কি সরল ও জীবন থেকে নেয়া মূহুর্তে ভরপুর এর কাহিনীচিত্র। একই সাথে, পরিচালকের পরিচালনার কথা বলে নেয়া যাক। পরিচালক মাবরুর রশিদ বান্নাহ তার প্রতিটা কাজের মাধ্যমে নিজেকে প্রমানিত করে এসেছেন। তার দক্ষতা, পরিশ্রম, সততা এবং প্যাশনেট এটিটিউট চোখে পড়ে তার কাজ স্ক্রিনে দেখলেই। এবারও, উনি তার পরিচালক স্বত্ত্বার পরিচয় দিয়েছেন ভালো ভাবেই। যদিও এই পৃথিবীতে কোনো কিছুই নির্ভুল নয়, তবুও এই কাজটি দেখে চোখে শান্তি লাগে এবং নির্ভুল দেখায়। মাবরুর রশিদ বান্নাহ, দিনকে দিন পরিপূর্ণ হচ্ছে এবং তার কাছ থেকেই এমন কাজ আরো দেখতে পাবো বলে আশা করছি। উনি যেনো উনার রি সহজ কিন্তু ট্রিগারিং নির্মানে অব্যাহত থাকেন। ঠিক এই কারণেই দর্শক উনাকে এতো বেশী গ্রহণ করেছেন এবং করবেন।

অভিনয়ে ছিলেন আফরান নিশো, তানজিন তিশা এবং মুশফিক আর ফারহান। আফরান নিশোকে আমি যখনই কোনো টেলিছবি কিংবা নাটকে পোস্টারে দেখতে পাই, কেমন যেনো একটা ভরসা কাজ করে। মনে হয়, দারুণ কিছু একটা হবে। অথবা, একটি ট্র্যাক থেকে পিছলে গেলেও, উনি সবকিছু সামলে নেবেন। আমার উনাকে বাংলা নাটকের সুপারহিরো মনে হয়। মানে, উনার উপর ভরসা করা যায়, উনার স্ক্রিন প্রেজেন্স আমাকে মুগ্ধ করেছে বরাবরই। প্রতিবার আমি তাকে নতুন কিছুতে পেয়েছি। ‘সুখী পরিবার’ নাটকটি উনাকে আবার ঠিক নতুনভাবে আবিষ্কার করেছে। কি সহজ তার চাহনি, সহজ ভাষা, ডায়ালগ ডেলিভারি, দারুণ এপিয়ারেন্স। উনি তার চোখগুলো নিয়ে ইচ্ছামতো খেললেন। মুখ টিপে কথা বললেন, কি দারুণ দেখা গিয়েছে সব কিছুই। একবারের জন্যেও মনে হয়নি, উনাকে একটি বেমানান লাগছে। সত্যি, হাউজ হাজবেন্ড এর চরিত্রটি যেনো তার জন্যই লেখা হয়েছিলো আমার কাছে মনে হয়েছে। তার বিপরীতে তানজিন তিশা বরাবরের মতোই নিজেকে প্রমাণ করলেন। একিটা ম্যাচুয়ার ক্যারেক্টার প্লে করবার সুযোগ মেয়ে নিজের পুরোটাই দিয়েছেন উনি। উনাকে এই নাটকে অনেক বেশী গ্রো-আপ লেগেছে আসলে আমার কাছে। মনেই হচ্ছিলো, উনি আসলেই একজন কর্পোরেট অফিসে কাজ করা ম্যাচুয়ার মেয়ে। উনি যে, নিজেকে দিনকে দিন অনেক বেশী গড়ে তুলছেন, তৈরী করছেন তা দেখেই বোঝা যায়। আফরান নিশোর বন্ধুর চরিত্রে অভিনয় করেছেন মুশফিক আর ফারহান। অল্প সময়ের জন্য স্ক্রিনে আসলেও, যখন এসেছেন নিজের অভিনয় দক্ষতার প্রমাণ তিনি ঠিকই রেখেছেন। আমি যদি আসলেই বলি, উনার ডেভেলপমেন্ট দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি। উনি অবশ্যই আর বিগিনার লেভেলে নেই। উনার সবচেয়ে বেশী যে জিনিসটি আমার দারুণ লেগেছে তা হচ্ছে ডায়ালগ ডেলিভারি। তিনি যে ডিরেক্টর’স এক্টর এর প্রমাণ উনি এর আগে বেশ অনেকগুলো কাজে দিয়ে গেছেন। আবারো দিলেন। দারুণ পারফরমেন্স।

মাবরুর রশিদ বান্নাহ এমন একটি টিম নিয়ে কাজ করে, যে টিমকে উনি চোখ বন্ধ করেও বিশ্বাস করতে পারেন। অন্যন্ত অভিজ্ঞ আর প্যাশনেট একটা প্রোডাকশন টিম। । কিভাবে বুঝলাম? উনার কাজ দেখলেই তা বুঝতে পারবেন। টেকনিক্যাল এস্পেক্টগুলো দারুণভাবে হ্যান্ডেল করা হয়েছে এই নাটকে। সিনেমাটোগ্রাফি এবং কালার গ্রেডিং ঠিকঠাক লেগেছে। আধিক্য নেই। সিম্পলের মধ্যে বেস্টটাই পেয়েছি। সাউন্ড আর মিউজিক খুবই ভালো লেগেছে। এই টিমটা নিঃসন্দেহে গ্রো-আপ করছে।

পরিচালক এবং কলাকুশীদের প্রতি আমার আহবান, এমন ধরনের কাজই যেনো আপনাদের কাছ থেকে পাই। আপনাদের হাতেই নাটক ইন্ডাস্ট্রি। আপনারা ভালো কাজ উপহার দিচ্ছেন বলেই, আমরা এখনো ভরসা রাখতে পারছি। ‘সুখী পরিবার’ এর মতো আরো নাটক সুখ দিক। মাবরুর রশিদ বান্নাহ এবং তার কাজ কখনো আমাদের আশাহত করেনি এবং করবেনা আশা করছি।

Comments

Loading...