লালাইঃ বিরল ভালোবাসার দৃষ্টান্ত

Loading...

মাবরুর রশিদ বান্নাহ।ব্যতিক্রমী এক স্বপ্নবাজের নাম। কিন্তু কেন? তাহলে বলছি, বান্নাহ ভাই যে শুধু নামেই ব্যতিক্রম তা কিন্তু নয়।তিনি কাজেও ব্যতিক্রম।আর তাঁর কাজের মধ্যেও তাকে বিচার বিশ্লেষণ করতে হবে আরেকটু ভিন্নভাবে।

কিভাবে? এই যে তিনি যেসব কাজ করছেন সেসবের মধ্যেও পরিলক্ষিত হয় তাঁর ব্যতিক্রমতা।যেখানে নাটক মানেই আমরা সাধারণত দেখি বা অনুভব করি প্রেম-ভালোবাসা,কাউকে না পাওয়ার কষ্ট কিংবা ভালোবাসার পথে কারো বাধা,প্রতিবন্ধকতা।আবার সেই সূত্র ধরে ঝগড়া,হিংসা,মারামারি এবং খুনের মত ঘটনারও চিত্র। এই জায়গাতেই বান্নাহ ভাইয়া ব্যতিক্রম।

প্রেম ভালোবাসার ছড়াছড়ির মাঝে থেকেও তিনি সর্বদা চিন্তা করেন ভিন্ন কিছু। সেখানে প্রেম আর ভালোবাসার চিরন্তন সত্যকে এড়িয়ে গিয়ে নয় এসবের সাথে রেখেও তিনি তুলে ধরেন মা,মাটি,দেশের প্রতি ভালোবাসা,মানুষের জীবনের বাস্তব দিক গুলো,সুখ-দুঃখ আর চিরাচরিত ভুলগুলোর চোখে আঙুল দিয়ে দেখাতে চান,জাগাতে চান।বলতে গেলে তাঁর প্রতিটা কাজেই কোনো না কোনভাবে একটা ম্যাসেজ দিতে চান। যার ব্যত্যয় ঘটে নি “লালাই” নাটকের এর ক্ষেত্রেও।

প্রাণীর প্রতি বিরল ভালোবাসার দৃষ্টান্ত খুঁজে পাওয়া যায় এ গল্পে।প্রাণীর প্রতি যে অনেক গৃহস্থের গভীর স্নেহ, মমতা, ভালোবাসা লুকিয়ে থাকে তা সত্যি অনন্য। ‘লালাই’ হলো কালু(আফরান নিশো)র পালিত গরু।অভাবের সংসারে অসুস্থ কালুর এই একটি মাত্র সম্বল।একদম ছোট থেকেই পেলেপুষে বড় করে। সারাদিন,সারাক্ষণ লালাইকে নিয়েই কালুর ব্যস্ততা।

ভাঙ্গা কোমর নিয়েও খাবার সংগ্রহ করতে যায় কালু, খৈল,ভূষি খাওয়ানো থেকে শুরু করে রাতে মশা তাড়ানো পর্যন্ত সব কিছু।কালুর একমাত্র শিশু মেয়েটাও অনেকদিন থিকা অসুস্থ।যা নিয়ে কলি (তানজিন তিশা)র চিন্তার অন্ত নেই। কিন্তু ভালো চিকিৎসা যে করাবে সেই সামর্থ্য যে কালুর নেই। মেয়ের অসুখ বেড়ে যাওয়াতে কোন উপায়ান্তর না দেখে কালুর বাবা লালাইকে বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেন।

লালাইকে বাজারে নিয়ে যাওয়া থেকে বিক্রি করা সবই কালুকে না জানিয়ে করতে হয়। ঘুম থেকে উঠে লালাই বিহীন গোয়াল ঘর দেখে কালুর সেকি কান্না! নিজের খুব কাছের কারো মৃত্যুতে স্বজনেরা যেমনটা আহাজারি করে।তারপর….! কি? উত্তরটা না হয় আপনিই দেন!

নাটকঃ লালাই
গল্পঃ আনিসুর বুলবুল
চিত্রনাট্য ও পরিচালনাঃমাবরুর রশিদ বান্নাহ
অভিনয়েঃ আফরান নিশো,তানজিন তিশা। .

||রুমান হাফিজ||

Comments

Loading...