তাঁরা সেরা

Loading...

ঈদ উল আজহায় টিভিতে এবং অনলাইনে এবার অনেকগুলো ভালো নাটক এবং টেলিফিল্ম এর দেখা মিলেছে । টিভির পাশাপাশি অনলাইনেও জনপ্রিয় কাজের কমতি ছিলো না । ফেসবুক গ্রুপ “বাংলা নাটক” এর এক জরিপে সাধারণ দর্শকদের ভোটে এবারের ঈদের ৩ জন সেরা নির্মাতা, ৫টি সেরা নাটক, ২ জন সেরা অভিনেতা এবং ২ জন সেরা অভিনেত্রী নির্বাচিত করা হয়েছে । তাঁরা হলেন :

০১. মোস্তফা সারয়ার ফারুকী : ৫১বর্তী, ফোর টুয়েন্টি, স্পার্টাকাস ৭১ একসময়কার এসব তুমুল জনপ্রিয় এই নাটকগুলো দিয়ে আমাদের নাটকের স্বাদ চিনিয়েছিলেন যে মানুষটি। এ মানুষটিই কিনা দীর্ঘ এগারো বছর ছিলেন টিভি নাটকের বাইরে। ভাবা যায়? ক্যাপ পড়া সদা হাসি মুখের প্রশান্ত, ধীর স্থির এই মানুষটি ই ভাই ব্রাদার্স এক্সপ্রেসে চড়ে এগারো বছর বাদে ফিরলেন মধ্যবিত্তের ড্রয়িংরুমে। সাথে সেই পুরান ভাই ব্রার্দাসরা। হাতে সত্তর দশকের একটা অস্থির গল্প। এই ঈদে দর্শকরা আরেকবার আনিসুল-ফারুকী কেমেস্ট্রীর জমজমাট আসর উপভোগ করলো। লেখক আনিসুল হকের আয়েশা মঙ্গল উপন্যাস অবলম্বনে “আয়েশা” বানিয়ে মূলত আরেকবার প্রমান দিয়েছেন তিনি তার জায়গায় অন্যন্য। তিনি যে নিজেকে সর্বহারার দলে দাবী করেন সেটি প্রকট সত্য এবং বাস্তব। প্রতি ফ্রেমে তিনি আঁকতে পেরেছেন বিষাদের গল্প, দীর্ঘশ্বাসের গান।দর্শক বিচারে তিনি সফল পরিচালক হিসেবে দখল করে আছেন শীর্ষস্থানের রাজমুকুট।

০২. মাবরুর রশীদ বান্নাহ : পরম মমতায় একটা মানুষ বুকের খুব ভেতরকার কিছু গল্প পর্দায় ফেলেন। তার গভীর জীবনবোধের এই গল্পগুলো কখনো বাস্তবতার হাস্যরসাত্নক অধ্যায়ে পর্দার এ পাশে বসে থাকে মানুষটিকে হাসায়,আবার কখনো কখনো ঘোর বিষাদগ্রস্ত করে তোলে।সেলুলয়েড এর ক্যানভাসে জীবনের আঁকাবাকা চৌরাস্তার ছবি একে যে মানুষটি দর্শক দরবারে জনপ্রিয় হয়ে আছেন তিনি ই মাবরুর রশীদ বান্নাহ। যিনি সবর্দাই জীবনের আলো-আধারের খেলা নিয়ে গল্প শোনাতে ভালোবাসেন। এই নির্মাতার আরেকটি তকমা ও আছে তিনি সর্বোচচ সংখ্যক কাজ করেন। দর্শক তার কাজ কে পরম সাদরে গ্রহন করে বলেই তিনি সবোর্চচ সংখ্যক পথে হাঁটতে পারছেন।সমাজের তলানি থেকে শুরু একেবারে উঁচু তল্লাটের মানুষের কাছে পৌছে দেওয়া কাজগুলো দিয়ে মানুষটা দর্শকের বিচারে প্রতিবারের মতো এবারের ঈদে তিনি উঠে এসেছেন সেরা দুই এ।লালাই, এবার তোরা মানুষ ‘হ’, বেডসিন, জীবন এখানে এমন, মানুষ হবো’র মধ্যে দিয়ে বলে গেছেন এক গভীর জীবনবোধের গল্প।

৩. শাফায়েত মনসুর রানা : সাবলীল গল্প বলা আর নষ্ট সময়কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বাস্তবতা টাকে পর্দার সামনে টেনে তুলে ধরেন এই সাফায়েত মনসুর রানা ই। এবারকার ঈদে “আমার নাম মানুষ” তার সাড়াজাগানো কাজ। সাম্প্রতিক সড়ক আন্দোলন আর নাগরিক জীবনের দুর্ভোগ ফুটিয়ে তোলেন তিনি হয়ে উঠছেন টক অফ দ্যা টাউন।

বাংলাদেশের নাটক বাংলার সংস্কৃতির প্রান। আর এর প্রানভোমরা স্বয়ং নির্মাতারাই। দিন বদলানোর মিছিলে পর্দার পেছনে কলকাঠি নাড়ানো নির্মাতাদের বিজয়ের মধ্যে ই দিয়ে আবার আসবে আলো।

দর্শকদের বিচারে সেরা নাটক :

১. আয়েশা : দর্শকপ্রিয়তার দিক থেকে আয়েশা উঠে এসেছে এক নম্বরে।ফারুকী তার জীবন্ত সংলাপ আর ক্যামেরার কারুকাজ দিয়ে সব মিলিয়ে অন্যমাত্রায় উঠিয়ে এনেছেন। স্বামী হারা আয়েশার করুন আকুতি আর নিদারুণ সময়ের খেলায় দাগ কেটে গেছে দর্শকের ভেতরে।

২. লালাই : লুতুপুতু প্রেমের এই যুগে লালাই যেন বান্নাহ্’র এক সাহসী নির্মান। যে গল্প গুলো অনুভূতির দলিল হয়ে জীবনে ছাপ ফেলে যায় সেটা শুধুই গল্প নয়; মাঝে মাঝে যাপিত জীবনের ও একটা অংশ হয়ে যায়।এই “লালাই” হচ্ছে জীবনে ছাপ ফেলে যাওয়া এমন একটি বোবা প্রাণীর কিছু ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আবেগের সমন্বয়ে গড়ে উঠা বুকের ভেতর কাঁপন তোলা সুর। যে সুর গুলো ইচ্ছে করেলেই মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে দেওয়া সম্ভব নয়।প্রচন্ড মায়া মমতা আকড়ানো এসব সুর বুকের ভেতর বয়ে চলে দিনের পর দিন।ভাবা যায় একটা মানুষ নিজের সব টুকো বিসর্জন দিয়ে দিতে পারে শুধু একটি বোবা প্রাণীর জন্যে। দর্শক প্রিয়তার দিক থেকে এর অবস্থান দ্বিতীয় শীর্ষে।

৩. আমার নাম মানুষ : এ নাটকের মাধ্যমে নির্মাতা রানা সমাজের বহুরূপী মানুষদের পর্দায় ও ফেলেছেন সাজিয়ে গুছিয়ে। সম্প্রতি ছোট ছোট শিশু কিশোর দের ভিত্তি নাড়িয়ে দেওয়া “সড়ক আন্দোলন” আর নাগরিক জীবনের সব অভিযোগ তুলে আনলেন এক নাটকেই। দুর্নীতি,পাবলিক ট্রান্সপোর্ট নারীদের হয়রানী,ফুটপাত নোংরা থেকে শুরু করে সব কিছু মুঠোবন্ধি করে তুলে আনলেন সেলুলয়েড এর পর্দায়। ভদ্রতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা মুখোশ গুলো টেনে টেনে ছিড়ে দেখালেন বাস্তবতার এক গল্প। জনপ্রিয়তার দিক থেকে এটি অবস্থান করেছে তিনে।

৪. লাভ ভার্সেস ক্রাশ : এটি একটি রোমান্টিক ঘরনার নাটক। দর্শকের রোমান্সের সাগরে হাবুডুবু খাইয়ে এই নাটক টি উঠে এসেছে চার নম্বরে।

৫. দানব : মানুষরূপী এক পিশাচের গল্প। আজাদ আবুল কালাম আর মোশারফ করিমের মিলিত প্রয়াস। মানুষ রূপী এক জানোয়ারের ভয়াবহ নৃংশসতা আর ডাকাতদলের থমথমে আবহে এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা।দর্শক সমাজ এটিকে জায়গা দিয়েছে সেরা পাঁচ এ।

দর্শকদের বিচারে সেরা দুই অভিনেতা :

১. মোশারাফ করিম : বাঙালির এক আবেগের নাম মোশরাফ করিম। যার নাটকের সংলাপ মধ্যবিত্ত বাঙালির কাছে ডালভাত। চায়ের স্টল থেকে রঙচঙে রেস্তোরাঁ, বন্ধু আড্ডা থেকে ক্যাজুয়াল পরিবেশ যেন মোশারফের ডায়লগ ছাড়া জমে ই না। এক ঘেয়ে হাসির ভাঁড়ামো থেকে এ মানুষটা আবার ফিরে আসছেন। এবারকার ঈদে দানব দিয়ে এ মানুষটা আবার ফিরেছেন বহুদিন পর।

২. আফরান নিশো : একজন অভিনেতার সবচেয়ে বড় গুন হচ্ছে চরিত্রের মধ্যে নি:শব্দে ঢুকে পড়া।আরফান নিশো যেন তার ই সমর্থক।গল্পের লেয়ারে লেয়ারে নিজেকে বদল করে ফেলেন এই অভিনেতা। সম্প্রতি তার অভিনীত লালাই,এবার তোরা মানুষ হ, ছেলেরাও কাঁদে, লায়লা তুমি কি আমাকে মিস কর? কাজ গুলো যেন ই তার প্রমাণ।

দর্শকদের বিচারে সেরা দুই অভিনেত্রী :

১. নুসরাত ইমরোজ তিশা : “এ মেয়েটা যদি হলিউডে জন্মাতো তাহলে এতোদিনে অস্কার টস্কার পেয়ে ফেলতো পারতো” নুসরাত ইমরোজ তিশার চমৎকার অভিনয়ে মুগ্ধ হয়ে বহুদিন আগে এমন ই উক্তি করে ফেলেছিলেন এক কট্টর সিনেমা সমালোচক।এই উক্তিটি যে ভুল নয় তার স্বয়ং প্রমাণ তিশা নিনিজেই। “আয়েশা” যে ফারুকী পর্দায় ফিরে এসেছেন রাজকীয় ভাবে তার চেয়ে বেশী ফিরেছেন তিশা। গল্পের প্রতিটি দৃশ্যে অভিনেত্রী হিসেবে তিশা তাকে মেলে ধরেছেন অসহায়ত্বের শেষ সীমানা অবধি। তিনি তার অভিনয়ে তার দুঃখ, তার বিষাদ দর্শকের মাঝে ছড়িয়ে দিয়েছেন সফলভাবে। তার সঙ্গে দর্শক দীর্ঘশ্বাস ছেড়েছে। তার সঙ্গে দর্শক কেঁদেছে। এটাতো ই সফলতা।

২. তানজিন তিশা : এই তরুণীর কথা বলতে গেলে বিখ্যাত চলচ্চিত্রকার আব্বাস কিয়ারোস্তামির সেই বিখ্যার উক্তিটি মনে পড়ে যায়” অভিনয় হচ্ছে এমন একটা জিনিস যেটা করা হয় পর্দায় ভেতরে। কিন্তু রেশটা থেকে যায় পর্দার বাইরেও”। তার অভিনয়ের রেশটাও পর্দার বাইরে থেকে যায় অনেকটা সময় জুড়েই। তা টের পাওয়া “বেড সিন” নাটকের দৃশ্যপট জুড়ে।দর্শক জনপ্রিয়তার দিকে থেকে তিনি উঠে এসেছেন সেরা দুই এ।

Comments

Loading...